বাণিজ্যিক খামারে ব্ল্যাক বেঙ্গল কেন নয়

গুণগত মানের চামড়া এবং সুস্বাদু মাংসের জন্য সারা পৃথিবী বিখ্যাত আমাদের দেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল। যে কোন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং বছরে দুইবার একের অধিক বাচ্চা প্রদান করা ব্ল্যাক বেঙ্গলের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। এত গুরুত্বপূর্ণ সব বৈশিষ্ট্য থাকার পরও দু:খ জনক হলেও সত্য যে, বাণিজ্যিকভাবে ব্ল্যাক বেঙ্গলের খামার লাভজনক নয়।

ছাগলের বাণিজ্যিক খামার করতে চাইলে আমার উপদেশ হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল নির্বাচন না করা। ঠিক যে কারণে আমাদের দেশী মুরগির পরিবর্তে আমরা ফার্ম এর মুরগি (বয়লার) দিয়ে খামার করি। যেহেতু আপনি কিন্তু ব্যবসা করার জন্য খামার করছেন সেহেতু আপনাকে সবার আগে চিন্তা করতে হবে, কিভাবে কত দ্রুত অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। আমি ব্ল্যাক বেঙ্গল অপছন্দ করি বিষয়টা এমন নয়। এদের প্রোডাকশন ভালো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং কম সময়ে অধিক বাচ্চা দেয়।

ব্ল্যাক বেঙ্গলের মূল সমস্যা হলো এদের ওজন বৃদ্ধির হার অনেক কম । খুব ভালো পরিচর্যা করলে প্রতিদিন ৫০ গ্রাম এর বেশি ওজন বাড়ে না। অর্থাৎ প্রতি মাসে ওজন হয় ১.৫ কেজি। তাহলে ৬ মাস পর এর ওজন হবে ৯ কেজি + জন্মকালীন ওজন ১.৫ কেজি। মোট ১০.৫ কেজি জীবিত ওজন। মূলত আপনি মাংস পাচ্ছেন ৬ কেজি যার দাম হবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি মূল্য হবে ৩০০০ টাকা। এবার আপনি খাবার খরচ, কর্মচারীর খরচ, ঔষধ ইত্যাদি মিলে প্রতি মাসে কত খরচ হয় হিসাব করুন। এছাড়াও আপনাকে পশু খাদ্য হিসাবে হাইড্রোফনিক, ভুট্টা, খর, জম্বু ঘাস চাষ করতে হচ্ছে। আবার বছরে শুধুমাত্র ৬ মাস ঘাস পাওয়া যায়।

আমার খামারে প্রতি মাসে ছাগল প্রতি খরচ হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তাহলে ৬ মাসে খরচ দাঁড়ায় ১৫০০ টাকা এর সাথে মা ছাগলের খাবার খরচ আরো ১৫০০ টাকা। যদি ২ বা ততোধিক বাচ্চা হয় তাহলে মুনাফা হবে ১৫০০ টাকা প্রতি ২টি বাচ্চা ও একটি মা থেকে যা খুবই সামান্য। ব্ল্যাক বেঙ্গল শুধু মাঠে চড়িয়ে লালন পালন করলে ব্যবসা করা সম্ভব কিন্তু স্টল ফিডিং অথবা নিবির পরিচর্যা পদ্ধতি করলে লাভ করা কঠিন। অন্য দিকে আপনি যদি ক্রস যমুনা পারি, বিটল, পাটনায়ে, উসমানাবাদী, তালচ্যারি ছাগল লালন পালন করেন তাহলে ভালো মুনাফা পাবেন। এসব জাতের ছাগলের দৈনিক বৃদ্ধির হার ১০০ গ্রাম। যা ৬ মাসে ২০ কেজি ওজন হবে যার মূল্য পাবেন ৫০০০ টাকা কিন্তু মাসিক খরচ হবে ব্ল্যাক বেঙ্গলের সমান।

অনেকে হয়ত ভাবছেন তাহলে ব্ল্যাক বেঙ্গল কি হারিয়ে যাবে অথবা ব্ল্যাক বেঙ্গলের বিকল্প কি হতে পারে! ব্ল্যাক বেঙ্গলের বিকল্প আসলে ব্ল্যাক বেঙ্গলই। ব্ল্যাক বেঙ্গলকে বিশ্ব দরবারে ভালভাবে উপস্থিত করাতে হলে এর জাত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গলের গুরুত্ব অনুভব করতে হবে। বিএলআরআই কে সক্রিয় হতে হবে এর জাত উন্নয়নে। দেরি করে হলেও সরকার সম্প্রতি ব্ল্যাক বেঙ্গল নিয়ে কাজ করা শুরু করেছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল থেকে প্রকৃত উপযোগিতা পাবার আশায় রইলাম।

 

তথ্য সূত্র-SR Farms

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।